হাজারো বাংলাদেশি পরিবারের কাছে চল্লিশ বছর ধরে ‘বিদেশ’ মানে ইতালি। ভেনিসের কা’ ফোস্কারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সেসকো দেল্লা পুপ্পা জার্মানির ফেডারেল নাগরিক শিক্ষা সংস্থার জন্য এই ইতিহাস তুলে ধরেছেন।
পথিকৃৎরা
প্রথম বাংলাদেশিরা আসেন আশির দশকে; নব্বইয়ের দশকে, যখন ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এবং তারও আগে যুক্তরাজ্য দরজা বন্ধ করে, তখন ইতালি বড় গন্তব্য হয়ে ওঠে। তাঁরা প্রায়ই ছিলেন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণ, যাঁরা থালা ধোয়া, ফেরি, পরিচ্ছন্নতা বা কারখানার কাজ নিতেন।
বৈধকরণ
বৈধকরণ কর্মসূচিগুলো কমিউনিটির ইতিহাস গড়েছে: ১৯৮৬ সালে প্রায় ১০০ জন, ১৯৯০ সালে প্রায় ৪,০০০ এবং দুই হাজারের দশকের শুরুতে ৭০,০০০-এর বেশি বাংলাদেশি বৈধতা পান। নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যন্ত ৯২% থাকতেন রোমে — লন্ডনের পর ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশি কমিউনিটি।
উত্তর-পূর্বের দিকে
কাগজ বৈধ হওয়ার পর অনেকে উত্তর-পূর্বের শিল্পাঞ্চলে চলে যান: ধাতুশিল্প, জাহাজ কারখানা, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ। পারিবারিক পুনর্মিলনে আসেন স্ত্রী-সন্তানেরা।
তারপর লন্ডন
২০০৮ সালের সংকটের পর ইতালীয় নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশিদের একাংশ আবার পাড়ি দেন, মূলত যুক্তরাজ্যে — সন্তানদের জন্য বেশি সুযোগ আর বড় কমিউনিটির খোঁজে। ব্রেক্সিট এই প্রবাহ ধীর করেছে। আজ ইতালিতে কমিউনিটি আগের চেয়ে বড়: ইতালি নামের ‘বিদেশ’-এর গল্প চলছেই।





