মূল বিষয়
- মার্কিন গণমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা হাউসে প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসন ছাড়িয়ে গেছে এবং সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
- সিনেটে টেক্সাস, ওহাইও, আইওয়া, ক্যানসাস ও সাউথ ক্যারোলিনার মতো অঙ্গরাজ্যে তারা রিপাবলিকানদের আসন ছিনিয়ে নিয়েছে।
- ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকছেন এবং তাঁর ভেটো ক্ষমতাও থাকছে।
- নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি।
৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গণমাধ্যমগুলোর পূর্বাভাসে জানা গেছে। এবার হাউসের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে, সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে এবং ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ভোট হয়েছে। কিছু এলাকায় এখনো গণনা চলছে, তাই আসনের সঠিক সংখ্যা আগামী কয়েক দিনে বদলাতে পারে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলাফল
সবচেয়ে বেশি নজর ছিল টেক্সাসে, যেখানে ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন; ১৯৮৮ সালের পর সেখানে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট আসন জেতেননি। ক্যানসাসে অ্যাডাম হ্যামিল্টন ১৯৩২ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর হলেন। জর্জিয়ায় জন অসফ নিজের আসন ধরে রেখেছেন, আর মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদ হতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য (আমাদের প্রতিবেদন পড়ুন)। আলাস্কায় গণনা শেষ হতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে বলেছেন, তিনি “ফল মেনে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত” এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ব্যালটে তাঁর নাম থাকলে রিপাবলিকানরাই জিতত, আর “ভেটো” লেখা একটি টুপির ছবি পোস্ট করেছেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পরাজয়ের জন্য তিনি আংশিকভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।
এখন কী বদলাবে
ট্রাম্প ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে থাকছেন, তবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে তাঁকে বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো আইন পাস করতে দুই কক্ষের ভোট ও প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগে; প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে প্রতিটি কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। হাউস প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে ও কর্মকর্তাদের তলব করতে পারবে, আর সিনেট ফেডারেল বিচারকসহ প্রেসিডেন্টের মনোনয়নগুলোর ওপর ভোট দেবে। ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস হাউসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে পারেন।
অভিবাসী কমিউনিটির জন্য এর অর্থ
এবারের প্রচারণা মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে ঘিরে ছিল। যাঁদের আত্মীয়স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তাঁদের জন্য এখনই কিছু বদলাচ্ছে না: ভিসা, গ্রিন কার্ড ও টাকা পাঠানোর নিয়ম আগের মতোই থাকছে। অভিবাসন নিয়ে যেকোনো নতুন আইনের জন্য এখন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে সমঝোতা লাগবে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অর্থসহ ফেডারেল বাজেটও কংগ্রেসই অনুমোদন করে।
আগামী কয়েক দিন
ধীরগতির অঙ্গরাজ্যগুলোতে গণনা চলছে, আর প্রতিটি অঙ্গরাজ্য সার্টিফাই করার পরই ফল আনুষ্ঠানিক হবে। এই নির্বাচনে জয়ী অভিবাসী বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের, বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের নিয়ে বিমাস শিগগিরই একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।





